হা-মীম।
পড়ুন · শিখুন · বেড়ে উঠুন
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
লক্ষ্য ঠিক করুন, আজকের সূরা সম্পন্ন হিসেবে চিহ্নিত করুন, এবং শেষ খোলা স্থান ধরে রাখুন।
হা-মীম।
এ কিতাব নাযিল হয়েছে মহা প্রতাপের অধিকারী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট হতে।
যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবাহ কবূলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা, বড়ই অনুগ্রহশীল, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, প্রত্যাবর্তন তাঁরই কাছে।
কাফিররা ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঝগড়া করে না। কাজেই দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে।
এদের পূর্বে নূহের জাতি আর তাদের পরে বহু দল-গোষ্ঠী (রসূলদেরকে) অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক জাতি তাদের রসূলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল তাকে পাকড়াও করার জন্য, আর অসার অস্ত্রের সাহায্যে বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছিল তা দিয়ে সত্যকে খন্ডন করার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। অতঃপর দেখ, কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি।
এভাবে কাফিরদের ব্যাপারে তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য প্রমাণিত হল যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।
যারা ‘আরশ বহন করে আছে, আর যারা আছে তার চারপাশে, তারা তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে আর তাঁর প্রতি ঈমান পোষণ করে আর মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ক’রে বলে- হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তোমার রহমত ও জ্ঞান দিয়ে সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছ, কাজেই যারা তাওবাহ করে ও তোমার পথ অনুসরণ করে তাদেরকে ক্ষমা কর, আর জাহান্নামের ‘আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা কর।
হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাদেরকে আর তাদের পিতৃপুরুষ, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানাদির মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তাদেরকেও চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান যার ওয়া‘দা তুমি তাদেরকে দিয়েছ; তুমি মহা পরাক্রমশালী, মহা বিজ্ঞ।
সমস্ত খারাবী থেকে তাদেরকে রক্ষা কর। সেদিন তুমি যাকে সমস্ত খারাবী থেকে রক্ষা করলে, তার উপর তো দয়াই করলে। ওটাই হল বিরাট সাফল্য।
যারা কুফুরী করেছিল তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে- তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভের চেয়ে (তোমাদের প্রতি) আল্লাহর ক্ষোভ অধিক, (কেননা) তোমাদেরকে যখন ঈমানের দিকে আহবান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অস্বীকার করেছিলে।
তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি দু’বার আমাদের মৃত্যু দিয়েছ (জন্মের আগের মৃত অবস্থা আর জীবন শেষের মৃত্যু) আর আমাদেরকে দু’বার জীবন দিয়েছ। আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করছি, (এখান থেকে) বের হওয়ার কোন পথ আছে কি?
(তখন তাদেরকে উত্তর দেয়া হবে) তোমাদের এ শাস্তির কারণ এই যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা তা মেনে নিতে অস্বীকার করতে। আর যখন অন্যদেরকে তাঁর অংশীদার গণ্য করা হত, তখন তোমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করতে। হুকুম দেয়ার মালিক আল্লাহ- যিনি সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ।
তিনি তাঁর নিদর্শনাবলী তোমাদেরকে দেখান আর আকাশ থেকে তোমাদের জন্য রিযক অবতীর্ণ করেন. আল্লাহ-অভিমুখীরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।
কাজেই আল্লাহকে ডাক আনুগত্যকে একমাত্র তাঁরই জন্য নিদিষ্ট করো, যদিও কাফিরগণ তা অপছন্দ করে।
তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ‘আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর নির্দেশে তাঁর বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছে ওয়াহী প্রেরণ করেন যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সতর্ক করে।
মানুষ যেদিন (ক্ববর থেকে) বের হয়ে আসবে, আল্লাহর কাছে তাদের কোন কিছুই গোপন থাকবে না। (সেদিন ঘোষণা দেয়া হবে) আজ একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কার? (উত্তর আসবে) এক ও একক মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর।
প্রত্যেক ব্যক্তি যে কর্ম করেছে আজ তার প্রতিফল দেয়া হবে। আজ নেই কোন যুলম। আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
তাদেরকে সতর্ক কর সেই ঘনিয়ে আসা দিন সম্পর্কে যখন ওষ্ঠাগত প্রাণ নিয়ে তারা দুঃখ-কষ্ট সংবরণ করবে। যালিমদের জন্য কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না, এমন কোন সুপারিশকারীও থাকবে না যার কথা গ্রহণ করা হবে।
আল্লাহ চক্ষুর অন্যায় কর্ম সম্পর্কেও অবগত, আর অন্তর যা গোপন করে সে সম্পর্কেও।
আল্লাহ হক্ব বিচার করেন। তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকে তারা মোটেই বিচার করতে পারে না। আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না, তাহলে দেখতে পেত তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছিল। তারা শক্তিতে আর স্মৃতি চিহ্নে ছিল এদের চেয়ে প্রবল। অতঃপর তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন, আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে বাঁচানোর কেউ ছিল না।
এটা এজন্য যে, রসূলগণ তাদের কাছে স্পষ্ট (নিদর্শন) নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তখন আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন। তিনি প্রবল শক্তিধর, শাস্তিদানে কঠোর।
আমি মূসাকে আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট ফরমান দিয়ে পাঠিয়েছিলাম
ফেরাউন, হামান ও কারূনের কাছে। কিন্তু তারা বলল (এ লোকটা) এক যাদুকর, ঘোর মিথ্যুক।
তারপর যখন মূসা তাদের কাছে আমার সত্যসহ আসল তখন তারা বলল- এর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা কর, আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ। কাফিরদের ষড়যন্ত্র অকার্যকর ছাড়া আর কিছুই না।
ফিরআউন বলল- ছেড়ে দাও আমাকে, আমি মূসাকে হত্যা করব, ডাকুক সে তার রব্বকে। আমি আশঙ্কা করছি, সে তোমাদের জীবন পদ্ধতিকে বদলে দেবে কিংবা দেশে বিপর্যয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
মূসা বলল- আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের আশ্রয় গ্রহণ করছি সকল দাম্ভিক অহংকারীদের হতে, যারা বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না।
ফেরাউনের দলের এক মু’মিন ব্যক্তি- যে তার ঈমানকে গোপন রেখেছিল- বলল, তোমরা একজন লোককে শুধু কি এজন্য মেরে ফেলবে যে, সে বলে, আল্লাহ আমার প্রতিপালক। অথচ সে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছে। সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার মিথ্যা বলার পরিণাম সে নিজেই ভুগবে। আর সে যদি সত্যবাদী হয়, তাহলে সে তোমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছে তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। যে সীমালঙ্ঘন করে আর মিথ্যে বলে আল্লাহ তাকে সঠিক পথ দেখান না।
হে আমার জাতির লোকেরা! আজ তোমাদেরই কর্তৃত্ব চলছে, দেশে আজ তোমরাই বিজয়ী শক্তি। কিন্তু আল্লাহর শাস্তি যদি এসেই পড়ে, তাহলে তাত্থেকে আমাদেরকে কে রক্ষে করবে? ফেরাউন বলল- আমি তোমাদেরকে শুধু তা-ই বলছি, আমি নিজে যা বুঝেছি; আমি তোমাদেরকে সত্যপথই দেখাচ্ছি।
যে লোকটি ঈমান এনেছিল সে বলল- হে আমার জাতির লোকেরা! আগের জাতিগুলোর উপর যেমন (শাস্তির) দিন এসেছিল, আমি তোমাদের উপরও সে রকম (বিপর্যয়ের) আশঙ্কা করছি