মূল বিষয়বস্তুতে যান

রমজান

পড়ুন · শিখুন · বেড়ে উঠুন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

মূল বিষয়বস্তুতে যান
রমজান
তাজবীদ
স্থানীয় সময়
কুরআন তিলাওয়াত

তাজবীদের নিয়ম গাইড

কুরআন সুন্দর ও সঠিকভাবে তিলাওয়াত করার জন্য তাজবীদের সম্পূর্ণ নিয়মাবলী। আরবি উদাহরণ ও রঙিন ব্যাখ্যা সহ।

পরিচিতি

তাজবীদ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

তাজবীদ (تَجْوِيد) শব্দের অর্থ "সুন্দর করা" বা "উন্নত করা"। ইসলামি পরিভাষায়, এটি কুরআনের প্রতিটি অক্ষরকে তার সঠিক উচ্চারণস্থান (মাখরাজ) ও গুণাবলী (সিফাত) সহ পড়ার বিজ্ঞান।

আলেমগণ একমত যে কুরআন তিলাওয়াতে তাজবীদ অনুসরণ করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا

Wa rattilil-Qur'ana tartila.

"কুরআনকে ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করো।" (সূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:৪)

সুন্দর তিলাওয়াত সম্পর্কে হাদিস

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনে দক্ষ, সে সম্মানিত ও মান্যবর লিপিকারী ফেরেশতাদের সঙ্গী। আর যে ব্যক্তি কষ্ট করে কুরআন পড়ে ও তাতে হোঁচট খায়, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।" (সহীহ বুখারী ৪৯৩৭)

তাহকীক تَحْقِيق

সবচেয়ে ধীর গতি। প্রতিটি অক্ষর ও নিয়মে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়া। শিক্ষানবিশদের জন্য সর্বোত্তম।

তাদবীর تَدْوِير

মাঝামাঝি গতি। তাজবীদ নিয়ম মেনে মধ্যম গতিতে পড়া। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত স্তর।

হাদ্র حَدْر

দ্রুত গতি। তাজবীদ বজায় রেখে দ্রুত পড়া। শুধু অভিজ্ঞ পাঠকদের জন্য যারা নিয়ম আয়ত্ত করেছেন।

মাখারিজুল হুরূফ

উচ্চারণস্থান (মাখারিজ)

প্রতিটি আরবি অক্ষরের একটি নির্দিষ্ট উচ্চারণস্থান আছে। এগুলো ৫টি প্রধান এলাকায় বিভক্ত।

1. গলা (আল-হালক)

ء ه ع ح غ خ

গলার ৩ অংশ থেকে ৬টি অক্ষর

2. জিভ (আল-লিসান)

ت ث ج د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ك ل ن ي

সবচেয়ে বেশি অক্ষর — ১৮টি

3. ঠোঁট (আশ-শাফাতান)

ب م و ف

৪টি অক্ষর

4. নাসিকা (আল-খায়শূম)

غُنَّة

ঘুন্নাহর শব্দ — নাসিকা গহ্বর

5. মুখ গহ্বর (আল-জাওফ)

ا و ي (مَدِّيَّة)

মাদ্দ অক্ষরসমূহ

সিফাতুল হুরূফ

অক্ষরের গুণাবলী (সিফাত)

প্রতিটি আরবি অক্ষরের বিশেষ গুণ আছে যা তার শব্দকে অনন্য করে। এগুলো বিপরীত ও অ-বিপরীত দুই ভাগে বিভক্ত।

জাহর (সশব্দ)

جَهْر
বিপরীত
Hams (Whispered) هَمْس

সুকূন সহ উচ্চারণে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। বেশিরভাগ অক্ষর সশব্দ। হামস (ফিসফিস) অক্ষরে বায়ু প্রবাহিত হয়: ف ح ث ه ش خ ص س ك ت।

ب ج د ذ ر ز ض ط ظ ع غ ق ل م ن و ي ا

শিদ্দাহ (শক্তিশালী)

شِدَّة
বিপরীত
Rakhawah (Soft) رَخَاوَة

শব্দ সম্পূর্ণ আটকে তারপর ছাড়া হয়। মনে রাখুন: أَجِدْ قَطٍ بَكَتْ। রাখাওয়াহ অক্ষরে শব্দ অবিরাম প্রবাহিত হয়। মাঝামাঝি (বায়নিয়্যাহ): ل ن ع م ر।

أ ج د ق ط ب ك ت

ইসতি'লা (উচ্চতা)

اِسْتِعْلَاء
বিপরীত
Istifal (Lowering) اِسْتِفَال

জিভের পেছনের অংশ তালুর দিকে ওঠে। এগুলো ৭টি ভারী অক্ষর (তাফখীম অক্ষর একই)। বাকি সব অক্ষরে ইসতিফাল — জিভ নিচে থাকে।

خ ص ض غ ط ق ظ

ইতবাক (আনুগত্য)

إِطْبَاق
বিপরীত
Infitah (Opening) اِنْفِتَاح

জিভ তালুর সাথে চেপে যায়। শুধু ৪টি অক্ষরের এই গুণ আছে — এগুলো সবচেয়ে 'ভারী' আরবি অক্ষর। বাকি সব অক্ষরে ইনফিতাহ (জিভ ও তালুর মধ্যে ফাঁক)।

ص ض ط ظ

ইযলাক (সাবলীলতা)

إِذْلَاق
বিপরীত
Ismat (Heaviness) إِصْمَات

জিভের ডগা বা ঠোঁট থেকে সহজে প্রবাহিত হয়। মনে রাখুন: فِرَّ مِنْ لُبّ। বাকি সব অক্ষরে ইসমাত — উচ্চারণে বেশি প্রচেষ্টা লাগে।

ف ر م ن ل ب

নূন সাকিন ও তানভীন

নূন সাকিন ও তানভীনের ৪ নিয়ম

নূন সাকিন (نْ) বা তানভীন (ـًـٍـٌ) এর পর যে অক্ষর আসে তার উপর ভিত্তি করে ৪টি নিয়ম প্রযোজ্য হয়।

ইযহার (স্পষ্ট উচ্চারণ)

إِظْهَار
ইযহার (স্পষ্ট উচ্চারণ)

যখন নূন সাকিন বা তানভীনের পর ৬টি গলার অক্ষরের যেকোনোটি আসে, নূন স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয় ঘুন্নাহ ছাড়া। নূনের শব্দ পৃথক ও স্পষ্ট থাকে।

৬টি গলার অক্ষর:

ء ه ع ح غ خ

উদাহরণ:

مَنْ آمَنَ · مِنْ عِلْمٍ · عَلِيمٌ حَكِيمٌ

মান আ-মানা — হামযার আগে স্পষ্ট নূন

ইদগাম (মিলিয়ে পড়া)

إِدْغَام
ইদগাম (মিলিয়ে পড়া)

নূন পরবর্তী অক্ষরে মিলে যায়। ي ن م و (ইয়ানমু) এর সাথে — ঘুন্নাহ সহ মিলিয়ে পড়া। ل ر (লা, রা) এর সাথে — ঘুন্নাহ ছাড়া মিলিয়ে পড়া। ইদগাম শুধু দুটি পৃথক শব্দের মধ্যে প্রযোজ্য।

৬টি অক্ষর (ইয়ারমলু):

ي ن م و ل ر

উদাহরণ:

مَن يَعْمَلْ · مِن رَّبِّهِمْ · مِن نِّعْمَةٍ

মান ইয়া'মাল (ঘুন্নাহ সহ) · মিন রাব্বিহিম (ঘুন্নাহ ছাড়া)

ইকলাব (রূপান্তর)

إِقْلَاب
ইকলাব (রূপান্তর)

যখন নূন সাকিন বা তানভীনের পর বা (ب) আসে, নূনের শব্দ মীম (م) এ রূপান্তরিত হয়, এবং ২ গুণ ঘুন্নাহ সহ ধরে রাখা হয়।

১টি অক্ষর:

ب

উদাহরণ:

مِن بَعْدِ → مِم بَعْدِ · سَمِيعٌۢ بَصِيرٌ

মিন বা'দি — নূন বা-এর আগে মীম হয়

ইখফা (গোপন করা)

إِخْفَاء
ইখফা (গোপন করা)

যখন নূন সাকিন বা তানভীনের পর অবশিষ্ট ১৫টি অক্ষরের যেকোনোটি আসে, নূন গোপন করে পড়া হয় (পূর্ণ উচ্চারণও নয়, পূর্ণ মিলিয়ে দেওয়াও নয়)। ২ গুণ ঘুন্নাহ এর সাথে থাকে। জিভ তালুতে স্পর্শ করে না।

১৫টি অবশিষ্ট অক্ষর:

ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك

উদাহরণ:

مِنْ قَبْلِ · أَنْتُمْ · مَنْ ذَا · عِنْدَ

মিন ক্বাবলি · আনতুম — ঘুন্নাহ সহ গোপন নূন

মীম সাকিন

মীম সাকিনের ৩ নিয়ম

মীম সাকিন (مْ) এর পর যে অক্ষর আসে তার উপর ভিত্তি করে ৩টি নিয়ম।

ইদগাম শাফাবী (ঠোঁটের মিলন)

إِدْغَام شَفَوِي
ইদগাম শাফাবী (ঠোঁটের মিলন)

যখন মীম সাকিনের পর আরেকটি মীম আসে, দুটি মীম ঘুন্নাহ সহ ২ গুণ ধরে মিলিয়ে পড়া হয়। ঠোঁট বন্ধ থাকে।

মীমের সাথে মীম:

م

উদাহরণ:

لَهُمْ مَا · كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ

লাহুম মা — মীম মীমে মিলে যায়

ইখফা শাফাবী (ঠোঁটের গোপন)

إِخْفَاء شَفَوِي
ইখফা শাফাবী (ঠোঁটের গোপন)

যখন মীম সাকিনের পর বা (ب) আসে, মীম হালকা ঘুন্নাহ সহ গোপন করে পড়া হয়। ঠোঁট সামান্য খোলা থাকে।

বা-এর আগে মীম:

ب

উদাহরণ:

تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ · يَعْتَصِمْ بِاللَّهِ

তারমীহিম বিহিজারাহ — বা-এর আগে মীম গোপন

ইযহার শাফাবী (ঠোঁটের স্পষ্টতা)

إِظْهَار شَفَوِي
ইযহার শাফাবী (ঠোঁটের স্পষ্টতা)

যখন মীম সাকিনের পর মীম বা বা ছাড়া অন্য যেকোনো অক্ষর আসে, মীম স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়। অতিরিক্ত ঘুন্নাহ যোগ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

উদাহরণ:

أَلَمْ تَرَ · هُمْ فِيهَا · أَمْ لَمْ

আলাম তারা — তা-এর আগে স্পষ্ট মীম

মাদ্দের নিয়ম

মাদ্দ (দীর্ঘায়িত করা)

মাদ্দ অক্ষর (ا و ي) কে নির্দিষ্ট সংখ্যক হরকত (গণনা) ধরে টেনে পড়ার নিয়ম।

প্রাকৃতিক মাদ্দ (মাদ্দ তাবী'ঈ)

مَدّ طَبِيعِي
2 counts

মৌলিক দীর্ঘায়িতকরণ। মাদ্দ অক্ষর (আলিফ, ওয়াও, ইয়া) এর পর কোনো হামযা বা সুকূন নেই। সর্বদা ঠিক ২ গুণ — বেশিও নয়, কমও নয়।

قَالَ · يَقُولُ · فِيهِ

ওয়াজিব সংযুক্ত মাদ্দ (মাদ্দ মুত্তাসিল)

مَدّ وَاجِب مُتَّصِل
4-5 counts

ওয়াজিব মাদ্দ। যখন একই শব্দে মাদ্দ অক্ষরের পর হামযা আসে। ৪-৫ গুণ টেনে পড়তে হবে। মাদ্দ লাযিমের পর এটি সবচেয়ে শক্তিশালী মাদ্দ।

جَاءَ · سُوءٌ · جِيءَ · السَّمَاءِ

জায়েজ বিচ্ছিন্ন মাদ্দ (মাদ্দ মুনফাসিল)

مَدّ جَائِز مُنْفَصِل
2-4-5 counts

জায়েজ মাদ্দ। যখন এক শব্দের শেষে মাদ্দ অক্ষর এবং পরের শব্দের শুরুতে হামযা। তিলাওয়াতের ধরন অনুযায়ী ২, ৪, বা ৫ গুণ হতে পারে।

يَا أَيُّهَا · فِي أَنفُسِكُمْ · قَالُوا آمَنَّا

আবশ্যক মাদ্দ (মাদ্দ লাযিম)

مَدّ لَازِم
6 counts

যখন মাদ্দ অক্ষরের পর স্থায়ী সুকূন বা শাদ্দাহ (থামার কারণে নয়) আসে। সর্বদা ঠিক ৬ গুণ। কুরআনের শুরুতে যেমন الم এবং শব্দে যেমন الْحَاقَّةُ ও الضَّالِّينَ পাওয়া যায়।

الٓمٓ · الْحَاقَّةُ · الضَّالِّينَ · الطَّامَّةُ

আরেজী মাদ্দ (মাদ্দ আরিদ লিস-সুকূন)

مَدّ عَارِض لِلسُّكُون
2-4-6 counts

যখন শব্দের শেষ অক্ষরের আগে মাদ্দ অক্ষর থাকে এবং আপনি সেই শব্দে থামেন (শেষ অক্ষরকে সাকিন করে)। ২, ৪, বা ৬ গুণ টানতে পারেন। শুধু থামার সময় প্রযোজ্য।

الْعَالَمِينَ · نَسْتَعِينُ · الرَّحِيمِ

নরম মাদ্দ (মাদ্দ লীন)

مَدّ لِين
2-4-6 counts

যখন ফাতহাযুক্ত অক্ষরের পর ওয়াও সাকিন (وْ) বা ইয়া সাকিন (يْ) থাকে এবং পরের অক্ষরে থামেন। এখানে ওয়াও/ইয়া মাদ্দ অক্ষর নয়, লীন অক্ষর।

خَوْفٌ · قُرَيْشٍ · الْبَيْتِ

লামের নিয়ম

লামের নিয়মসমূহ

আল্লাহর লাম এবং আল (الـ) এর লামের বিশেষ নিয়ম।

ভারী (তাফখীম)

ফাতহা বা দাম্মার পর — লাম ভারী উচ্চারিত হয়

قَالَ اللَّهُ · عَبْدُ اللَّهِ · رَسُولُ اللَّهِ

হালকা (তারকীক)

কাসরার পর — লাম হালকা উচ্চারিত হয়

بِسْمِ اللَّهِ · لِلَّهِ · دِينِ اللَّهِ

ওয়াকফের নিয়ম

ওয়াকফ (থামার নিয়ম)

কুরআন তিলাওয়াতে কোথায় থামতে হবে এবং কোথায় থামা যাবে না তার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

ওয়াকফ তাম (সম্পূর্ণ থামা)

বাক্য ও অর্থ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং পরের অংশের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণত আয়াতের শেষে।

ওয়াকফ কাফী (যথেষ্ট থামা)

অর্থ সম্পূর্ণ কিন্তু পরের অংশের সাথে ব্যাকরণগত সম্পর্ক আছে। থামা জায়েজ।

ওয়াকফ কাবীহ (অপছন্দনীয় থামা)

এমন জায়গায় থামা যেখানে অর্থ অসম্পূর্ণ বা বিকৃত হয়। এই ধরনের থামা এড়াতে হবে।

ঘুন্নাহ

ঘুন্নাহ (নাসিকা ধ্বনি)

ঘুন্নাহ হলো নাসিকা গহ্বর থেকে উৎপন্ন একটি অনুনাসিক ধ্বনি যা বিভিন্ন তাজবীদ নিয়মে প্রযোজ্য।

ঘুন্নাহ কী?

ঘুন্নাহ (غُنَّة) হলো নাক থেকে উৎপন্ন একটি মধুর অনুনাসিক ধ্বনি। এটি নূন (ن) ও মীম (م) অক্ষরে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান। তাজবীদে এর সময়কাল পরিমাপ করা হয় হরকত (গণনা) দিয়ে।

غُنَّة

Ghunnah — নাসিকা ধ্বনি, ২ হরকত পরিমাণ

1

মুশাদ্দাদ (শাদ্দাহ সহ)

শাদ্দাহযুক্ত নূন বা মীম। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্পষ্ট ঘুন্নাহ। সময়কাল: ২ হরকত।

إِنَّ · ثُمَّ

2

ইদগাম ও ইখফা

মিলিয়ে পড়া (ঘুন্নাহ সহ ইদগাম) ও গোপন (নূন বা মীমের ইখফা) করার সময় ঘুন্নাহ। সময়কাল: ২ হরকত।

مَن يَعْمَلْ · أَنْتُمْ

3

ইযহার (স্পষ্ট নূন/মীম)

স্পষ্টভাবে উচ্চারিত নূন বা মীম সাকিনে প্রাকৃতিক, হালকা ঘুন্নাহ। সময়কাল: ১ হরকত।

مَنْ آمَنَ · أَلَمْ تَرَ

4

মুতাহাররিক (হরকত সহ)

স্বরচিহ্নযুক্ত (ফাতহা, দাম্মা, বা কাসরা) নূন বা মীম। এটি সবচেয়ে হালকা ঘুন্নাহ।

نَ · مَ · نِ · مُ

ঘুন্নাহ অনুশীলনের টিপ

ঘুন্নাহ সঠিকভাবে পরীক্ষা করতে: নূন বা মীম উচ্চারণের সময় নাক চেপে ধরুন। যদি শব্দ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ঘুন্নাহ সঠিক। যদি শব্দ একই থাকে, তাহলে আপনি নাক দিয়ে শব্দ প্রবাহিত করছেন না এবং সংশোধন প্রয়োজন।

কলকলা

কলকলা (প্রতিধ্বনি)

৫টি নির্দিষ্ট অক্ষরে সুকূন থাকলে একটি ক্ষুদ্র প্রতিধ্বনি/বাউন্স উৎপন্ন হয়।

৫টি কলকলা অক্ষর

ق ط ب ج د

মনে রাখুন: قُطْبُ جَدٍّ (কুতবু জাদ্দ)

ক্ষুদ্র

ক্ষুদ্র কলকলা (সুগরা)

শব্দের মাঝে কলকলা অক্ষরে সুকূন থাকলে। প্রতিধ্বনি হালকা।

يَقْطَعُون · أَبْصَارِهِمْ · يَجْعَلُونَ

বড়

বড় কলকলা (কুবরা)

শব্দের শেষে কলকলা অক্ষরে থামলে। প্রতিধ্বনি আরও শক্তিশালী ও স্পষ্ট।

الْفَلَقْ · مَسَدْ · مُحِيطْ · الْحَقّ

অনুশীলন

তাজবীদ শেখার টিপস

তাজবীদে দক্ষতা অর্জনের ব্যবহারিক পরামর্শ।

একজন যোগ্য শিক্ষক খুঁজুন

তাজবীদ শুধু বই বা ভিডিও থেকে পুরোপুরি শেখা যায় না। একজন যোগ্য শিক্ষকের কাছ থেকে মুখোমুখি (বা অনলাইনে) শেখা অপরিহার্য। শিক্ষক আপনার উচ্চারণ শুনে সংশোধন করতে পারেন যা কোনো অ্যাপ বা বই পারে না।

  • মাদ্দের দৈর্ঘ্য ভুল করা: ২ গুণের জায়গায় ৪ গুণ টানা বা ৪ গুণের জায়গায় ২ গুণ টানা
  • ভারী ও হালকা অক্ষর গুলিয়ে ফেলা: বিশেষত রা (ر), সাদ (ص), এবং সীন (س)
  • ঘুন্নাহ বাদ দেওয়া: ইদগাম ও ইখফায় ঘুন্নাহ ভুলে যাওয়া
  • কলকলা অতিরিক্ত করা: কলকলায় একটি স্বরধ্বনি যোগ করা (যেমন 'কা' এর বদলে 'ক')
  • থামার নিয়ম উপেক্ষা: ভুল জায়গায় থামলে আয়াতের অর্থ পরিবর্তন হতে পারে
  • অক্ষরের মাখরাজ ভুল করা: বিশেষত ح/ه, ع/ا, ق/ك, ذ/ز, ض/ظ এর মধ্যে পার্থক্য
ভিডিও পাঠ

তাজবীদ ভিডিও গাইড

দক্ষ শিক্ষকদের কাছ থেকে তাজবীদের নিয়মগুলো ভিডিওতে শিখুন।

তাজবীদ বেসিক — হরফের মাখরাজ

নুন সাকিন ও তানবীনের নিয়ম

তাজবীদ শেখার সর্বোত্তম উপায় একজন যোগ্য শিক্ষকের কাছ থেকে — এই গাইড একটি রেফারেন্স সম্পদ